লকডাউনের দৌলতে বাড়িতে থাকতে থাকতে বেড়েছে শারীরিক ওজন, হয়েছেন মোটাও। কিন্তু সামনেই যে পুজো, তাই নিজের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত প্রত্যেকেই। ফলে ওজন কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন সবাই। ডায়েট, জিম ও যোগা সেন্টারে রোজ দুবেলা করে দৌড়তে হচ্ছে সকলকে। পাশাপাশি নিজেদের সৌন্দর্যতাকে ফুটিয়ে তুলতে ছুটে যাচ্ছেন পার্লারেও।

তবে খাদ্যপ্রেমী মানুষের কাছে প্রিয় খাবারগুলিকে দূরে সরিয়ে ডায়েট মেনে ওজন কমানোর ব্যাপারটা যেন খুবই কঠিন। কিন্তু কিইবা করার আছে, পুজোতে তো নিজেকে ফিট-ফাইন রাখতেই হবে। তাই আপাতত মাছ, মাংস ও বাইরের ফাস্টফুড খাওয়া বন্ধ। ওজন কমাতে পরিবর্তে বেছে নিচ্ছেন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। বিশেষ করে, সকলেরই ডায়েটে থাকছে পনির ও ডিমের ছোঁয়া।

ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন-বি, এ, ডি, ই, কে, ভিটামিন বি-৫, আয়রন, ইত্যাদিতে ভরপুর ডিম ও পনির হাড়, পেশী গঠন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনেকেই জানতে চাইছেন এই দুই খাবারের মধ্যে কোনটি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর? তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক খাদ্যগুণ অনুসারে পনির ও ডিমের মধ্যে কোনটা বেশি উপকারি।

ডিম প্রোটিনে ভরপুর ডিমকে সুপারফুড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চিকিৎসকেরা একে ওজন নিয়ন্ত্রণকারী খাদ্য হিসেবেও বলে থাকেন। একটি সেদ্ধ ডিমে প্রোটিন – ৫.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম -২৪.৬ মিলিগ্রাম, আয়রন – ০.৮ মিলিগ্রাম, সেলেনিয়াম – ১৩.৪ মাইক্রো গ্রাম ও কোলেস্টেরল থাকে ১৬২ মিলিগ্রাম। এছাড়াও, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর থাকে এই প্রাণীজ খাদ্যটি। ডিমের মধ্যে থাকা এই সমস্ত উপাদান একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে, হাড় ও পেশি গঠনে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে অনেকেই ডিমের মধ্যে থাকা হলুদ অংশ অর্থাৎ কুসুম ডায়েট থেকে বাদ দিয়ে দেন। কারণ এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে। পনির এই দুগ্ধজাত পণ্যটি ডিমের মতোই আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পনিরে থাকা ভিটামিন, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বস, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও রাইবোফ্লাভিন, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পনির ও ডিমের মধ্যে কোনটা বেশি কার্যকরী? পুষ্টিগুণের বিচারে আপনার ডায়েটে দুটি খাবারই অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। কারণ, এই দুই খাবারের মধ্যে প্রোটিন ছাড়াও রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, আয়রন ও ক্যালসিয়াম, যা আমাদের শরীরকে ফিট রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উভয় খাদ্যই পেশী গঠনে ও ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে। এই ভেষজ চা পানে নিমেষেই কমবে হাঁপানি! দেখুন কীভাবে বানাবেন তবে আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই দুই খাদ্য ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করবেন কিনা এবং করলে তা ঠিক কতটা পরিমাণ, সে ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। নিজে থেকে কোনওভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। এতে হয়তো আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন।