মাংস খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। মটন হোক কিংবা চিকেন, ছুটির দিনে কষিয়ে রান্না করে না খেলে সেদিনের আহার যেন একেবারেই জমে ওঠে না। কিন্তু মুরগির মাংস তো সকলেই খায়, কিন্তু কখনও কি কড়কনাথ প্রজাতির মুরগির মাংস খেয়েছেন? নিশ্চয়ই নয়? তবে, একবার খেয়ে দেখতেই পারেন। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি গুণেও ভরপুর।

কড়কনাথ মুরগির পালক থেকে শুরু করে ঠোঁট, পা, নখ, ঝুঁটি, চোখ, সবটাই কালো। এমনকী, ওই মুরগির মাংস ও হাড়ের রংও কালো। যে কারণে অনেকেই খেতে পছন্দ করেন না, কিংবা পচা মাংস ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু জানেন কি, পৃথিবীর সমস্ত প্রজাতির মুরগির মধ্যে এই কুচকুচে কালো বর্ণের মুরগিই সবচেয়ে দামি। উপকারিতার দিক থেকেও এগিয়ে এটি। রীতিমতো ঔষধি গুণসম্পন্ন এই মুরগির মাংসে চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে। উল্টে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্যগুণ। এবার নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কড়কনাথ মুরগি মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

কড়কনাথ কী?
এই প্রজাতির মুরগি ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম পাওয়া যায়, সেখানে এর নাম ‘অ্যায়াম কেমানি’। মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীরা ইন্দোনেশিয়া থেকে এই মুরগি নিয়ে এসে একটি হাইব্রিড প্রজাতির সৃষ্টি করেন এবং দেশের মধ্যে প্রথম চাষ শুরু করেন। এদেশে এই হাইব্রিড মুরগির নাম হয় ‘কড়কনাথ মুরগি’। গ্রাম বাংলায় কড়কনাথ প্রজাতির মুরগি কালো মুরগি বা ব্ল্যাক চিকেন হিসেবেই পরিচিত। আবার মধ্যপ্রদেশে একে ‘কালি মাসি’-ও বলা হয়।

powered by Rubicon Project
আসলে এই মুরগির সমস্ত অংশই কুচকুচে কালো বর্ণের, এমনকি ডিম পর্যন্তও কালো বর্ণেরই হয়। তবে ভারতে এই প্রজাতির মুরগির ডিম মূলত সোনালী রঙের হয়। সাধারণ মুরগির থেকে এই মুরগির লড়াই করার ক্ষমতাও অনেক বেশি।

এটি কোথায় কোথায় পাওয়া যায়?
মধ্যপ্রদেশে কড়কনাথ পাওয়া গেলেও, বর্তমানে ভারতবর্ষের বহু রাজ্যে এই প্রজাতির চাষ শুরু হয়েছে। যেমন – সুন্দরবনের কাকদ্বীপ, নামখানা ও কুলপিতে এই মুরগির চাষ শুরু হয়েছে। কর্ণাটক, কেরল, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশাতেও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ, আমেরিকা, চিন, ইত্যাদি জায়গায়ও পাওয়া যায়। চীনে যার নাম সিল্কি-নেটিভ।

নিউট্রিশন ভ্যালু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যান্য মুরগির তুলনায় এই জাতের মুরগিতে পুষ্টিগুণ যেমন বেশি, তেমনি ফ্যাটের পরিমাণও অত্যন্ত কম, প্রায় নেই বললেই চলে। যে কারণে চিকিৎসকেরা ডায়েটে এই মুরগি মাংস খাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রতি ১০০ গ্রাম কড়কনাথ মুরগিতে রয়েছে – প্রোটিন – ২৫ শতাংশ ফ্যাট – ১ শতাংশেরও কম কোলেস্টেরল – ১৮৫ মিলিগ্রাম লিনোলিক অ্যাসিড – ২৪ শতাংশ এছাড়াও, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২, ভিটামিন-সি এবং ই, নিয়াসিন (Niacin), ক্যালসিয়াম ফসফরাস ও আয়রন থাকে। কড়কনাথে ১৮টা অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে, যার মধ্যে ৮টা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ১) যৌন ক্ষমতা বাড়ে কড়কনাথে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন উপাদান যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ২) দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এই প্রজাতির মুরগিতে রয়েছে Carnosine নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চোখের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ৩) ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই প্রজাতির মুরগির ভূমিকা অতুলনীয়। গবেষকরা জানাচ্ছেন যে, কড়কনাথে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে তোলে এবং ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৪) হার্ট সুস্থ রাখে হার্ট সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে ডায়েটে অবশ্যই রাখুন কড়কনাথ মুরগি। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকার কারণে এটি খেলে হার্ট সুস্থ থাকে। পাশাপাশি ভিটামিন, আয়রন ও খনিজ উপাদানগুলির উপস্থিতির ফলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও হ্রাস হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। ৫) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে কড়কনাথের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই ডায়েটে অবশ্যই রাখুন এই প্রজাতির মাংস। এছাড়াও ১) রক্তাল্পতার ঝুঁকি রোধ করে। ২) হাড়কে শক্তিশালী করে। বিশেষত, মহিলাদের ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ৩) ত্বকে পুষ্টি যোগায়। ৪) ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ৫) মাথাব্যথা ও হাঁপানি রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।