গত বছর নভেম্বরের ঘটনা। কেরালার সবরিমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে কিছু মহিলা প্রতিবাদ করেন। অধ্যক্ষ বলেন, মহিলারা অনেক সময় ঋতুমতী থাকা অবস্থায় মন্দিরে প্রবেশ করে তা অপবিত্র করেন। তাই এই ব্যবস্থা। কে ঋতুমতী, কে ঋতুমতী নয়, তা বুঝতে এক বিশেষ যন্ত্র আবিষ্কারের উপায়ও বাতলে দেন মন্দিরের অধ্যক্ষ। এবং তাঁর প্রতিবাদেই গোটা দেশে #HappyToBleed প্রচার শুরু করলেন বিভিন্ন স্তরের মহিলারা। প্রতিক্রিয়া আসে পুরুষদের থেকেও। শুরু হয় অনলাইন ক্যামপেইন। সেই হ্যাশট্যাগে মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিনে হ্যাপি টু ব্লিড লিখে ফেসবুক, টুইটারে পোস্ট করতে শুরু করেন। প্রতিবাদ শুরু হয় এক মধ্যযুগীয় ধারণার বিরুদ্ধে। শুরুতেই এসব কথা বলার কারণ হল, আমরা অনেকটা এগিয়ে এসেছি। যেসব আলোচনা একসময় আড়াল খুঁজত। টু শব্দটি করলে মুখ লুকোতো, তা আজ অনেকটাই খোলসহীন। এখন অনেকক্ষেত্রেই সেক্স, প্লেজ়ার, পিরিয়েডস্ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা শুরু হয়েছে। তাই হয়তো আজ মেন্সট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে-র সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে ওয়ার্ল্ড মেন্সট্রুয়াল ডে।
মাসের বিশেষ দিনগুলিতে কী করবেন, কী করবেন না
অধিকাংশ মহিলারই সব জানা – কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়। তবু অনেকেই গাফিলতি করেন। অনেকেই এড়িয়ে যান দায়িত্ব। সবচেয়ে আগে দরকার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। তাই চোখ বুলিয়ে নিন। আরও একবার দেখে নিন – আপনি সবকিছু ঠিকমতো মানেন তো।

বারবার বদলাতে হবে ন্যাকপিন : দীর্ঘক্ষণ একটি ন্যাপকিন পরে থাকা অনেকের অভ্যাস। বিশেষ করে সেইসব দিনে যখন ঋতুস্রাবের প্রবাহ প্রায় কমে আসে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই অভ্যাসের কারণেই সংক্রমণ ছড়ায়। ঋতুস্রাব বেরনো মাত্রই তা গোপনাঙ্গের জীবাণুদের সংস্পর্শে আসে। ন্যাপকিনের মধ্যে থেকে যায়। সেই ন্যাপকিন দীর্ঘ সময় পরে থাকলে সংক্রমণ ছড়ায়। হতে পারে চুলকুনি, ফুসকুড়িও। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্তত ৬ ঘণ্টা অন্তর ন্যাপকিন বদলানো উচিত। তবে বেশি প্রবাহের ক্ষেত্রে ঘনঘন ন্যাপকিন বদলানো প্রয়োজন।
গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা চাই : ঋতুস্রাবের প্রবাহের সময় গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই সেটি করেন না। তবে ক্ষতযুক্ত সাবান দিয়ে নয়। সেক্ষেত্রে ক্ষতিকর জীবাণুদের সঙ্গে গোপনাঙ্গের উপকারী জীবাণুরাও নষ্ট হতে পারে। গরম জল দিয়ে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
ব্যবহৃত ন্যাপকিন সঠিক পদ্ধতিতে ফেলা দরকার : কেউ ময়লা রাখার ডাস্টবিনে, কেউ বাড়ির পিছনে ময়লা ফেলার জঙ্গলে, কেউ বা কমডে ফ্লাশ করেন ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন। এর কোনওটাই সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে পরিবেশ নোংরা হয়, নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়ায়। এসব না করে ন্যাপকিন ফেলার আগে ভালো করে খবরের কাগজে বা টিশু পেপারে মুড়িয়ে ফেলুন। তারপর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
কাপড়ের টুকরো বা একই স্যানিটারি ন্যাপকিন বারবার ব্যবহার করা নয় : এটা গ্রামের দিকে বেশি। দেখা যায় কাপড়ই অনেকে ব্যবহার করেন আজও। একই কাপড় একাধিকবার ব্যবহার করেন। যে কারণে সংক্রমণ ছড়ায়। এই অভ্যেস এবার ত্যাগ করার সময় এসে গেছে। বাজারে কম দামেও স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়।
নিয়মিত স্নান করা জরুরি : কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে আজও মহিলাদের একাংশ বিশ্বাস করেন, ঋতুস্রাবের সময় স্নান করা অমঙ্গলের। তখনকার দিনে মহিলারা পুকুরে স্নান করতেন। সবার স্নান করা, কাপড় কাচা, বাসন মাজা – পাড়ার প্রতিটি কাজ নির্ভর করত পুকুরের জলের উপর। তাই বলা হত মেয়েদের এসময় স্নান করতে নেই। কিন্তু বিষয়টি একেবারেই তার উলটো। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতুস্রাব চলাকালীন রোজ নিয়ম করে দু-বেলা স্নান করা উচিত।

যৌনতা ও ঋতুস্রাব একসঙ্গে চলতে পারে কি?
অনেকেই মনে করেন, মাসের ওই ৫-৬টি দিন মিলিত হওয়ার জন্য অস্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে এই ধারণা পোষণ করেন মহিলারাই। কেননা, তলপেটের যন্ত্রণা, খারাপ মেজাজ, শরীরে অস্বস্তির কারণে মিলনে খুব একটা আগ্রহবোধ করেন না তাঁরা। কিন্তু পুরুষের কাছে এটা অন্যতম সুরক্ষিত সময়। যদিও তাঁদেরও একাংশ মনে করেন ব্যাপারটা অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু অধিকাংশই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। মনে করেন, এ সময় মিলিত হলে গর্ভধারণের ভয় নেই। যদিও বিজ্ঞানীরা বলেন, সেটি ৯৯ শতাংশ সত্য। ১ শতাংশ হলেও গর্ভধারণের ভয় থেকে যায়। আশঙ্কা পুরোপুরি যায় না। আরও একটা ব্যাপারে আশঙ্কা থাকে। কারও যদি STD, মানে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজ়িজ় থাকে, সে সময় তা আরও সহজে ছড়াতে পারে। ফলে কন্ডোমের ব্যবহার অতি আবশ্যক।
এছাড়া, পিরিয়ডের সময় সেক্স করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় না। ঋতুচক্র চলাকালীন মেয়েদের শরীরে মিলিত হওয়ার স্বাভাবিক ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। সহজেই তৃপ্ত হওয়া যায় তখন। মিলিত হলে তলপেট কিংবা পায়ের যন্ত্রণাও কমে যেতে পারে।
…আর যদি ঋতুস্রাব নিয়মিত না হয়
অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় ভোগেন না এমন মেয়ের সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোনা। তাই এই সময় আরও অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত। খাওয়াদাওয়া, জীবনযাত্রা সবেতেই এ সময় প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণের। কীভাবে মাসের এই কয়েকটা দিন থাকবেন ঝরঝরে ও ফুরফুরে, তার জন্য রইল কিছু টিপস্।

কবে থেকে ঋতুস্রাব শুরু হচ্ছে, তা খেয়াল রাখুন। পারলে ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখুন। ফলে পরের মাসে যখন ঋতুস্রাবের সময় আসবে তখন আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারবেন।
অনেকেই এ সময় প্রচুর জাঙ্ক ফুড খান। এই সময়টায় যতটা সম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। যত কষ্টই হোক, আইসক্রিম, চিপস্, ভাজাভুজির হাতছানিতে সাড়া দেবেন না।
যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করতে জিমে যান, ঋতুস্রাব হলে তাঁরা অনেকেই এ সময় শরীরচর্চা করেন না। জিমে না গেলেও এ সময় যোগা করুন। এতে একদিকে যেমন শরীর ভালো থাকে, তেমনই মনও থাকে ঝরঝরে।  অনলাইনে ফিমেল হাইজিন কেয়ারের  প্রোডাক্ট কিনতে ভিজিট করুন  http://www.unishopz.com/

This Product is originally from ঋতুচক্রের জরুরি কিছু কথা and written by probal